কে-পপ ভক্তদের জন্য এই সিনেমা এক অসাধারণ সংমিশ্রণের পরিচয় দেয়: তারকারা গ্ল্যামারোভরা মিউজিক ভিডিওর সঙ্গে অ্যানিমে-শৈলীর দানবযুদ্ধের অনবদ্য সম্মিলন। সিনেমাটি ‘কে-পপ ডেমন হান্টার্স’ নামে নামকরণ করা হয়েছে, যা এই মিশেলকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলে। চলুন 상세ভাবে দেখে নেওয়া যাক এটি কেন এমন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
নেটফ্লিক্সে গত জুন মাসে মুক্তি পাওয়া এই সিনেমা এখনো বাংলাদেশের শীর্ষ ১০ সিনেমার তালিকায় রয়েছে। সনি পিকচার্স অ্যানিমেশনের এই প্রযোজনা তরুণ-তরুণীদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে, যেখানে কোরিয়ান পৌরাণিক কাহিনী এবং আধুনিক কে-পপ সংস্কৃতি একেবারে নাচনাচে মিলেমিশে দিয়েছেন। পরিচালনা করেছেন ম্যাগি ক্যাং এবং ক্রিস অ্যাপেলহ্যান্স। গার্ডিয়ান এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ২৬ আগস্ট পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে এই সিনেমাটি দেখেছেন ২৩৬ মিলিয়নেরও বেশি দর্শক।
কাহিনীর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হান্টার এক্স নামে এক কাল্পনিক কে-পপ গার্ল গ্রুপ। এর তিন সদস্য রুমি, মিরা ও জোয়ি শুধু স্টেডিয়ামে গানের আনন্দ নয়, গোপনভাবে ডেমন হান্টার হিসেবেও কাজ করে। তাদের দায়িত্ব হলো পৃথিবী থেকে আত্মা চুরি করা ডেমনদের থেকে মানবজাতিকে রক্ষা করা। তবে একসময় তাদের জন্য বড় জটিলতা তৈরি হয়, যখন তারা জানতে পারে সাজা বয়েজ নামে ডেমনদের তৈরি একটি কে-পপ ব্যান্ড তাদের বিরোধী। এই ব্যান্ডের ভক্তদের শক্তি চুরি করে তারা নিজেদের শক্তি বাড়াতে চেষ্টা করে। এই লড়াইয়ের মাঝে কিছু গোপন তথ্য উন্মোচিত হয়, যার মধ্যে বড় চমক হলো রুমির শরীরে ডেমনের রক্তের উপস্থিতি।
অভিনব কাহিনী এবং দৃষ্টিনন্দন অ্যানিমেশনের জন্য ‘কে-পপ ডেমন হান্টার্স’ ব্যাপক প্রশংসা পাচ্ছে। বিশেষ করে এর ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা তুলনা করা হচ্ছে ২০১৮ সালের ‘স্পাইডার-ম্যান: ইনটু দ্য স্পাইডার-ভার্স’ এর সঙ্গে। সিনেমার রঙিন ও গতিশীল ফ্রেম দর্শকদের দৃষ্টিকে আকর্ষণ করে তোলে। সিনেমাটির সাউন্ডট্র্যাকও দর্শকদের মনে একটা আলাদা ছন্দ সৃষ্টি করেছে, যার মধ্যে ‘গোল্ডেন’, ‘টেকডাউন’, ‘ইয়োর আইডল’ ও ‘সোডা পপ’ গানগুলো ঈর্ষণীয় স্থান পেয়েছে। এসব গান বিলবোর্ড হট-১০০ চার্টেও উঠে এসেছে, যেখানে গোল্ডেন প্রথম স্থানে রয়েছে, আর ইয়োর আইডল ও সোডা পপ যথাক্রমে পাঁচ ও চার নম্বরে অবস্থান করছে। আইটেম গানের এই জনপ্রিয়তা সত্যিই বিরল, কারণ এটি একটি অ্যানিমেটেড সিনেমার জন্য ছিল কঠিন চ্যালেঞ্জ। এই গানগুলো আবার গল্পের সঙ্গে মিশে আবেগ ও অ্যাকশনের মুহূর্তগুলোকে আরও জীবন্ত করে তোলে।
অভিনয় ও অ্যাকশন ছাড়াও সিনেমাটি বন্ধুত্ব, আত্মপরিচয় ও নিজের দুর্বলতা মেনে নেওয়ার মতো গভীর বিষয়গুলো স্পর্শ করে। যদিও কিছু ট্র্যাডিশনাল গল্পের রুটিনমাফিক উপাদান রয়েছে, যেমন রুমি ও জিনুর রোমান্টিক সাবপ্লট, তা দর্শকদের মনোযোগ ধরে রাখতে সক্ষম। পরিচালক ম্যাগি ক্যাং-য়ের কোরিয়ান ঐতিহ্য ও পৌরাণিক কাহিনীর প্রতি ভালোবাসা স্পষ্ট; একজন জিওসুং সাজা, যিনি মৃত্যুর দূত হিসেবে পরিচিত, এই সিনেমায় তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তবে এই বিষয়ের কিছু আলোচনা না থাকলে সিনেমার কিছু অংশ বোঝার জন্য অস্থিরতায় পড়তে হতে পারে।
সিনেমাটি প্যারেন্টাল গাইডেন্স (পিজি) রেটিং পেয়ে থাকলেও, ডেমন ও আত্মা চুরি বা সংঘর্ষের কিছু দৃশ্য কিছু ছোটদের জন্য ভীতিকর হতে পারে। তবে কিশোর-কিশোরীদের এবং প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য এটি একটি ঘণ্টা ৩৬ মিনিটের আনন্দের সফর। ডেমন, অ্যানিমেশন, সংগীত ও গল্পের এক সুন্দর সমন্বয়ে এই সিনেমাটি নিশ্চিতই একটি নতুন ধরনের বিনোদন উপহার দিয়েছে।